প্রজন্ম পাবলিকেশন, উৎকৃষ্ট প্রকাশনীর স্বরূপ এবং বিবিধ বিষয়

একটি প্রকাশনী একটি ব্যানার। লেখকদের জন্য একটি ভালো প্রকাশনী পাওয়া বিশাল সহায়ক ব্যাপার। ভালো প্রকাশনীগুলো তুলে আনতে পারে দুর্দান্ত সব প্রতিভাবান লেখক। বিক্রয় এবং সাপোর্টিভ মনোভাব দিয়ে তাকে করে তুলতে পারে সফল। তাই ভালো প্রকাশনী মানেই লেখকের জন্য বড়সড় ছায়ার ন্যায়, লেখকের জন্য আশীর্বাদ। তো একটি ভালো প্রকাশনী আসলে কেমন হওয়া উচিত? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কতগুলো প্রকাশনী মানসম্মত? এই প্রশ্নগুলো সবার মনেই জাগে। এর জবাব দিতে আমি আমি আজ চলমান সময়ের একটি প্রকাশনীর উদাহরণই টানতে চাই, যারা একটি আদর্শ প্রকাশনীর প্রায় সবগুলো বিষয়ই মেইনটেইন করে চলে। বোঝাতে চাচ্ছি, অমন একটি প্রকাশনীর ছত্রছায়ায় বড় হওয়া যেকোন লেখক/অনুবাদক এর জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তেমন একটি প্রকাশনী হচ্ছে প্রজন্ম পাবলিকেশন। শুরুটা বেশিদিন আগের নয়। এইতো বছর দেড়েক আগের কথা। ২০১৮ সাল। মেলা পূর্ববর্তী সময়ে হুট করেই যাত্রা শুরু করে প্রজন্ম পাবলিকেশন। বিখ্যাত সাংবাদিক সামি আলহাজের লেখা বই ‘কয়েদী ৩৪৫’ এর অনুবাদের মধ্য দিয়ে প্রকাশনা জগতে তাদের পদার্পণ। তারপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক দুর্দান্ত বই দিয়ে পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছে প্রজন্ম পাবলিকেশন। নিজেদেরকে গড়ে তুলেছে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে। নন-ফিকশন বেইজড এই পাবলিকেশন হাউজটি নিজেদেরকে এই অল্প সময়ে এতটাই ওপরে নিয়ে গেছে যে লেখক/অনুবাদক নয় বরং তাদের প্রকাশনীর নামেই পাঠক বই ক্রয় করে থাকেন। এটাই হচ্ছে একটি প্রকাশনীর মূল সফলতা। এমন অবস্থানে থাকা কোন প্রকাশনী থেকে নতুন কারো বই প্রকাশিত হলেও তার জন্য পথচলা সহজ হয়ে যায়। পরিচিতি গড়ার আগেই সেসব নতুন লেখক পেয়ে যান প্রকাশনীর সাপোর্টে বিক্রয় এবং অর্থ আয়। প্রশ্ন জাগতে পারে, এত অল্প সময়ে একটা প্রকাশনী এই পর্যায়ে কিভাবে চলে গেলো? এবার তাহলে সেসবের উত্তর মেলানো যাক। আর সেসব দিয়ে নিজ দায়িত্বে যাচাই করে নিন ‘কেমন হওয়া উচিত একটি আদর্শ প্রকাশনী’ এই কথাটি। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক বর্তমান সময়ে বাংলাদেশী বইয়ের জগতে অন্যতম সেরা ব্র্যান্ডেড ব্যানার ‘প্রজন্ম পাবলিকেশন’ এর সফলতার পেছনের দিকগুলো।

প্রশংনীয় পেশাদার মনোভাব

পেশাদারিত্ব জিনিসটা আজকাল বাংলাদেশের প্রকাশনীগুলোতে অমাবস্যার চাঁদের মত হয়ে গেছে। কোথাও পেশাদারিত্ব খুঁজে পাওয়া দায়। হেলাফেলা, প্রতারণা এবং ওয়াদার বরখেলাপ এখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সেদিকে যাচ্ছি না। প্রজন্ম পাবলিকেশন এই বিষয়টিকে কঠিনভাবে হ্যান্ডেল করে থাকে। লেখক/অনুবাদক তাদের কাছে ক্লায়েন্টের মতন। ক্লায়েন্টদের সুবিধা দিতে তারা যেমন সিদ্ধহস্ত, তেমনি কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে কথা রাখা, সময়মত সকল ডেলিভারি আদায়ের ক্ষেত্রেও তারা কঠোর! বই নিয়ে কোন কথার নড়চড়ে বিশ্বাস করে না তারা। ব্যবসার ক্ষেত্রে তো কখনোই না। লেখকের কাছ থেকে সার্ভিস নেওয়া হতে পেমেন্ট পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় দুর্দান্ত পেশাদারিত্বের প্রয়োগ দেখা যায় বইয়ের এই পাবলিশিং হাউজটিতে, যা কিনা অন্যান্য প্রকাশনী থেকে তাদেরকে আলাদা জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে।

বই নির্বাচনে দূরদর্শীতা অবলম্বন

বই প্রকাশের ক্ষেত্রে বই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন প্রকাশককে তার প্রকাশনীকে বহুদূর এগিয়ে নেবার জন্য প্রতিটি পদক্ষেপে দূরদর্শীতার পরিচয় দিতে হয়। তার ব্যত্যয় ঘটে না বই নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। সময়োপযোগী, সমাজকে বদলে দেবার আমূল চিন্তাধারার বিকাশ ঘটানোর জন্য যেসব বই কার্যকরী, একজন দূরদর্শী প্রকাশক মাত্রই সেসব বই প্রকাশ করে থাকেন। হোক সেটা মৌলিক বা অনুবাদ যেকোন বিভাগেই। পাশাপাশি ব্যবসায়িক দিকটাও খেয়াল রাখতে হয়। ভালো কনটেন্ট, সময়োপযোগী বিষয়ের ওপর হলে যেকোন বই ই ব্যবসাসফল হবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। এই কাজটিই ভালোভাবে সম্পন্ন করে থাকে প্রজন্ম পাবলিকেশন। তাদের বইয়ের ধরণ, বইগুলোর চাহিদা দেখে নিশ্চয়ই পাঠকদের অজানা থাকার কথা নয় বই নির্বাচনে এই পাবলিকেশন হাউজটি কতটা সচেতন!

লেখক অথবা অনুবাদক নির্বাচনে কঠোরতা

একটি পাবলিকেশন হাউজ টিকিয়ে রাখতে প্রফেশনালিজম এবং বই নির্বাচনের পরেই আসবে লেখক/অনুবাদক নির্বাচনের বিষয়টি। কোন বইটি কেমন হবে, উক্ত বইয়ের মান এবং চিন্তাধারার ডেলিভারি কেমন হবে সেটা অনেকাংশেই নির্ভর করবে ব্যক্তি হিসেবে বইটির লেখক/অনুবাদক কেমন এবং তার চিন্তাভাবনার যোগ্যতা আসলে কতটুকু। আর বিদেশি যেকোন বই অনুবাদ করার জন্য অনুবাদক নির্বাচনের বিষয়টিও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, মূল বইটির কনটেক্সট অপরিবর্তিত রেখে সাবলীল ভাষায় পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেবার কাজটি যেনতেন ব্যাপার নয়। দক্ষ অনুবাদক ছাড়া রীতিমতো এটি একটি অসম্ভব টাস্ক। এদিক দিয়ে প্রজন্ম পাবলিকেশনের প্রশংসা না করে পারা যায় না। দক্ষ অনুবাদক নির্বাচন করার দিকে সংশ্লিষ্টরা যথেষ্ট সতর্ক থাকেন। এক্ষেত্রে তারা ট্রায়াল পদ্ধতি অবলম্বন করেন। এই পন্থায় প্রতিটি অনুবাদককে প্রজন্ম পাবলিকেশনে জয়েন করতে হলে সুনির্দিষ্ট ট্রায়াল প্রসেস পার করে আসতে হয়। বলা চলে অনুবাদক নির্বাচনে প্রজন্ম পাবলিকেশন একরকম সেন্সরশীপ জারি করে রেখেছে৷ সেখান থেকে ফিল্টারিং করে অনেক লোকের মধ্যে যোগ্যকেই নির্বাচিত করা হয় বইগুলো অনুবাদ করার জন্য। একই হিসেব প্রযোজ্য মৌলিক লেখকের ক্ষেত্রেও। মৌলিক লেখকদের বইগুলো বেশ কয়েকবার পড়ার পর উপযুক্ত মনে না হলে প্রকাশ করা হয় না। সেন্সরের জালে আটকে যায় প্রকাশের অনুপযুক্ত সকল বই। অনেকটা, যোগ্যতা নেই তো ভাত নেই- এমন ব্যবস্থা!

নিয়মিত সম্মানী প্রদানে নিষ্ঠাবান

বর্তমান সময়ে প্রায়ই লেখকদেরকে হাহাকার করতে দেখা যায়। কেন? কারণ হচ্ছে, টাকা দিয়ে বই করানো হয়, প্রকাশক কতৃক টাকা মেরে খাওয়া, চুক্তি মোতাবেক নির্দিষ্ট সংখ্যক বই না আনা, বিক্রির হিসেব না দেয়া এবং সর্বশেষ, বই থেকে প্রাপ্ত অর্থের সম্মানী না দেয়া। এসব কাজে কার দোষ সে প্রসঙ্গে আমি যাচ্ছি না। চুক্তি ঠিকমতো সাইন করা হয়েছিলো কিনা সেটাও বলতে চাই না। তবে এমন অভিযোগ হরহামেশাই পাওয়া যায় বাংলাদেশে এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এইদিক দিয়ে প্রজন্ম পাবলিকেশন ব্যতিক্রম। এখনও কোনরকম বিতর্কে জড়ায়নি এই পাবলিশিং হাউজটি। আমি নিজে বই লিখেছি এখান থেকে। ট্রাস্ট মি, অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রানিং সময়ের বহু লেখকের থেকে আমার আয় অনেক বেশি এবং আমার পেছনে প্রজন্মের ইনভেস্টও ব্যাপক। তারা নিয়মিত রয়্যালিটি মেইনটেইন করে। এটা খুব ভালো দিক। এই লেখক সহায়ক পরিবেশের জন্য প্রজন্মে নিয়মিত অনেকেই যুক্ত হচ্ছে। ফলে তারা আরো এগিয়ে যাচ্ছে।

কোয়ালিটি মেইনটেইন্যান্স, মার্কেটিং এবং রিডার্স এক্সপেক্টেশন প্রসঙ্গে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদর্শন

প্রজন্ম পাবলিকেশন নিজের খরচে বই প্রকাশ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বইয়ের স্বত্ব কিনে নেয়। তাই লেখক/অনুবাদককে টাকা পেমেন্ট করার পর বইটি নিয়ে ব্যবসার পুরো দায়দায়িত্বই তাদের ওপর চলে যায়। এই কঠিন জিনিসটা সামলানো বাংলাদেশের বর্তমান পাঠকসংখ্যাতে যে কতটা জটিল ও দুঃসাধ্য কাজ সেটা সম্পর্কে সবাই অবগত আছেন। তাও প্রজন্ম এই লড়াইটা একাই লড়ে যায়। লেখক/অনুবাদক ভার্চুয়াল জগতে কিছুটা প্রচারণা চালিয়ে সে কাজে সাহায্য করেন। তাদের পরিচয়ে কিছু বই তো অবশ্যই বিক্রি হয়। কিন্তু পুরো সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট তারা নিজেরাই সামলায়। কেননা, নিজের টাকা দিয়ে বইয়ের প্রোডাকশন ব্যয় এবং লেখককে সম্মানী দেবার পর বিনিয়োগকৃত টাকা তুলে আনাটাই হয়ে পড়ে তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয়। এই চ্যালেঞ্জটি তারা নেয় এবং ভালোভাবেই সামলায়। আর এসব চ্যালেঞ্জেরই অংশ হচ্ছে সেলস এ্যান্ড মার্কেটিং খাতকে শক্তিশালী করা এবং এর সফল ব্যবহার। প্রজন্ম পাবলিকেশন এই কাজটি সফলভাবেই করে থাকে। আর বিক্রি বাড়িয়ে খরচ তুলে আনাসহ ব্যবসা চালাতে বাই প্রোডাক্ট হিসেবে তাদেরকে বইয়ের কোয়ালিটি এবং রিডার্স এক্সপেক্টেশনের দিকে খেয়াল রাখতে হয়। এজন্য তারা কোয়ালিটি মেইনটেইন করে বই প্রকাশ করে এবং বই যাতে পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেদিকটায় লক্ষ্য রেখে ফিল্ড প্ল্যানিং সাজায়। আফটার অল, তাদেরকে বই বিক্রি করতে হবে এবং সেটা কাস্টোমার স্যাটিসফ্যাকশন অক্ষুন্ন রেখে মার্কেটিং করেই করতে হবে। তারা এসব প্ল্যানিং মাথায় রেখেই কাজ করে এবং সফল বলেই আজ এ পর্যায়ে আসতে পেরেছে। আপনি তাদের কাস্টোমার স্যাটিসফ্যাকশন আর মার্কেটিং প্ল্যানের সদ্ব্যবহার দেখলে অবাক না হয়ে পারবেন না!

আভ্যন্তরীণ সম্পর্ক বজায় রাখা

এতক্ষণ যে কথাটি বলিনি সেটা এখন বলতে চাই- প্রজন্ম পাবলিকেশন আমার নিজের। আমি নিজেই প্রজন্ম পাবলিকেশনের অংশীদার। কী? শুনে অবাক হলেন? আমি প্রকাশক নই, প্রজন্ম পাবলিকেশনের আভ্যন্তরীণ কোন সেক্টরে কাজ করি না, এমনকি সেখানে ব্যবসার শেয়ারও নেই আমার। আমি তাদের ক্লায়েন্ট। তারা সার্ভিস নেয়, বিনিময়ে টাকা পরিশোধ করে। তবুও এইযে আমি এভাবে প্রতিষ্টানটিকে নিজের বলতে পারছি, এইযে পুরো প্রতিষ্ঠানকে আপন করে নিতে পারছি এটা হচ্ছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এই প্রকাশনীর সবাই এভাবেই চিন্তা করে। একটি প্রকাশনী কখনো কারো একার নয়, আপনি যদি পুঁজির হিসেবটাকে আড়ালে রাখেন। সবাই মিলেই দাঁড় করায় সফল কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে। সেখানে থাকে সবার অবদান। একজন লেখক হতে শুরু করে প্রকাশক, সম্পাদক, প্রুফরিডার এবং মার্কেটার ইত্যাদি সবারই ভূমিকা রয়েছে সফল প্রতিষ্ঠান তৈরিতে। সেজন্য যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারার প্রথম ধাপ হলো নিজের প্রতিষ্ঠানকে নিজের মনে করে কাজ করা। এ বিষয়টা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রজন্ম পাবলিকেশন দারুণ সফল। সংশ্লিষ্ট সবাই আভ্যন্তরীণ সম্পর্ক গড়ার জন্য খুব তৎপর। প্রকাশকদেরকে যদি হাত বলা হয়, তাহলে প্রজন্ম পাবলিকেশন তার বাকি লোকদেরকে পা মনে করে। সেসব পায়ের ওপর নির্ভর করে তারা হেঁটে চলে। এই বিষয়গুলো খোদ প্রজন্ম পাবলিকেশনের কর্ণধাররাই স্বীকার করে এবং লেখকদেরকে তারা গুরুত্ব দেয় খুব। সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা দুর্দান্ত। এইযে আমি বলতে পারি- প্রজন্ম আমার নিজস্ব পাবলিকেশন হাউজ। এই আপন করে নেয়ার স্বভাবটি প্রজন্মের কর্নধাররাই তৈরি করে দেয়। আপনি প্রজন্ম পাবলিকেশনের সাথে আছেন মানে আপনি কোন কর্মচারী নন। আপনি স্বাধীন। আপনি এই পরিবারের একজন সদস্য। কেবল আপনাকে পরিবারের মধ্যে থাকা কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। এর বাইরে কিচ্ছু নয়। এছাড়াও সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আরো পদক্ষেপ নিয়ে থাকে প্রজন্ম পাবলিকেশন। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে কি লেখকদের সাথে তাদের কোনদিন মনোমালিন্য হয় না? অবশ্যই হয়। তবে সেটা কেবল লেখক কতৃক কোন অপেশাদার আচরণ পাওয়া গেলে। এদিক দিয়ে প্রজন্ম এত কঠোর যে আপনার এমন আচরণ চলতে থাকলে তারা সরাসরি আপনাকে বয়কট করার সাহস রাখে এবং বয়কট করবেই। তা আপনি যত বড় মাপের কেউই হন না কেন! মাঝেমধ্যে আমাদের মাঝে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। আমরা অজুহাত দেই, তাতে করে হয়তো কিছু কথাও শুনতে হয়। কিন্তু দিনশেষে আমরা সেসব ভুলে যাই। আমরা একটা কথাই মনে রাখি- আমরা প্রজন্ম পাবলিকেশন একটা পরিবার। এখানে কিছু মনোমালিন্য হলে সেটা আমাদের আচরণের জন্যই হয় এবং অবশ্যই আমাদের ভালোর জন্যই কিছু কথাবার্তা বলা হয়। অতঃপর সবকিছুতেই আমরা আমাদের ভালোটা নিশ্চিত করি। বাই দ্য ওয়ে, পরিবারে থাকলে কাদের মাঝে ঝগড়া না হয়? তাই বলে কি মানুষ পরিবার ছেড়ে চলে যায়? যায় না। যেতে পারে না। বরং, পরিবারকে কেন্দ্র করেই সকল স্বপ্ন সাজায়।

যাইহোক, এগুলো হচ্ছে প্রজন্ম পাবলিকেশনের সফলতার পেছনে কতিপয় কারণ। মাত্র দেড় বছর আগে শুরু করা এই প্রকাশনী এখন একটি ‘ব্র্যান্ড’ এর নাম। এতে যে শত্রু তৈরি হয়নি তেমনটা নয়। বরং এতদিনে শত্রুও তৈরি হয়েছে কমবেশি। সেসব প্রকাশনী অনেক বাজে কর্ম করে থাকে প্রজন্ম পাবলিকেশনের উত্থান ঠেকাতে। টেনে নামাতে চায়। কিন্তু টেনে কি কেউ কাউকে নামাতে পারে? পারে না। যোগ্যতা থাকলে লোকে ওপরে উঠবেই। মতের অমিল বা ভুল থাকলে কাজের সমালোচনা করতে পারেন। কিন্তু অন্য প্রতিষ্ঠানকে নানা উপায়ে নিচে নামানোর পদক্ষেপ নেয়াটা হিংসার বহিঃপ্রকাশ। আর হিংসা কেবল ধ্বংস ডেকে আনে। তাই এসব না করে চলুন ভালো পদক্ষেপ অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়া যাক। কাজ দিয়েই সবাই ওপরে উঠুক। সফল কাউকে ঈর্ষাকাতর হয়ে টেনে নামানোর সংস্কৃতি বন্ধ হোক। ভালো কাজ ছড়িয়ে পড়ুক। সকলেই নিজের যোগ্যতা দিয়ে উপযুক্ত সফলতা পেতে থাকুক এই কামনা করি। বাকি সকল পাবলিশিং হাউজের জন্য রইলো অশেষ শুভকামনা। আশা করি তারাও টিকে থাকতে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। সর্বোপরি, বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পে নতুন একটি জাগরণ সৃষ্টি হবে, এই জাগরণ সৃষ্টি হবে লেখক ও প্রকাশকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমি তেমন একটি দিন দেখার অপেক্ষায়। হয়তো আপনারাও অপেক্ষা করে আছেন!

Comments

One response to “প্রজন্ম পাবলিকেশন, উৎকৃষ্ট প্রকাশনীর স্বরূপ এবং বিবিধ বিষয়”

  1. মুহসিন আব্দুল্লাহ Avatar
    মুহসিন আব্দুল্লাহ

    আপনি সত্য বলেছেন। একেবারে শুরু থেকে তো আমি আছি ওদের সাথে, ব্যাপারটা আমার চেয়ে ভাল কেউ জানার কথা না। ব্যবসায়িক মনোভাব আছে কিন্তু কাউকে ঠকিয়ে নয়, বিশেষ করে লেখকদের সাথে কমিটমেন্ট রক্ষায় আপোষহীন। অন্যান্য প্রকাশনীতে যেখানে জমা দেওয়ার পর ছাপা হবার আগ পর্যন্ত লেখককে কোনো পারিশ্রমিক দিতে চায় না। সেখানে তারা কাজ চলা অবস্থায়ও পেমেন্ট দিয়ে দিয়েছে। লেখকের সুখে দুখে পাশে থাকার চেষ্টা করে। লেখক হিসেবে এটাইতো আমাদের চাওয়া। পরম পাওয়া। দুই স্বাপ্নিক তরুণের প্রতিষ্ঠান প্রজন্ম। অথচ কত পরিপক্ক। এগিয়ে যাক। শুভ কামনা নিরন্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *