নারী ও পুরুষতান্ত্রিকতার সারাংশ

আমরা মানবজাতি মোটাদাগে দুই শ্রেনীতে বিভক্ত। পুরুষ ও নারী। বলা যেতে পারে, পুরো পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাঝে নারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। পুরুষ হিসেবে একজন মানুষ যতটা স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে বা পুরুষের জন্য যতটা স্বাধীনতার পরিবেশ বজায় রয়েছে, তার সিকিভাগও নারীর জন্য বজায় নেই। এর পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তবে প্রধানত, নারীর তুলনায় পুরুষের শক্তসামর্থ্য শারীরিক গড়ন ও শক্তি বড় ভূমিকা রাখে। তার পাশাপাশি মেয়েদের এই অবস্থার পেছনে মূল যে কারণ রয়েছে তা হলো ‘পুরুষতান্ত্রিক’ মনোভাব। নারীদেরকে দাবিয়ে রাখারই এক অপকৌশল হলো পুরুষতান্ত্রিকতা। ধর্ম হোক কিংবা বিভিন্ন মতবাদই হোক, সেসবে পৃথিবীতে নারীর সুন্দরভাবে বিচরণের অধিকারের ব্যাপারে বিশদ বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার কথা। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই বলে? আদৌ নারী তার ইচ্ছেমত ইতিবাচকভাবে পৃথিবীর সর্বত্র বিচরণ করতে সক্ষম? উত্তর হচ্ছে, না। কেন সক্ষম হয় না? এর পেছনে কাজ করে অদৃশ্য এক শিকল, যার নাম পুরুষতান্ত্রিকতা। সকল মতবাদে নারীর জন্য উল্লেখ থাকা অধিকারকে অন্যায়ভাবে রহিত করার নামই পুরুষতান্ত্রিকতা। এমন মনোভাবে গঠিত সমাজে নারীদেরকে দাবিয়ে রাখার যে ক্রুর প্রচেষ্টা চালানো হয়, তারই একটি প্রতিফলন ঘটে নারীর জীবনের ব্যক্তিগত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবার সময় নিজের অধিকার না পাওয়ার মধ্য দিয়ে। আমরা দেখি, গরু ছাগল জবাই করার সময় তাদের মতামত নেয়া হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষেত্রেও তাদের মতামত নেয়া হয় না কিংবা গুরুত্ব দেয়া হয় না। তাহলে গরু ছাগলের থেকে নিশ্চয়ই ভালো অবস্থানে নেই তারা। তাহলে কি তারা কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক সত্তা বিবর্জিত প্রানী? মানুষ নয়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আমার জানা নেই (করুণ বাস্তবতার কোন জবাব নেই)। আমি এখানে ‘পুরুষতান্ত্রিকতা’ দেখি সকল তন্ত্র মন্ত্রের আড়ালে। নারীকে প্রানী বানানোর কোন প্রক্রিয়া এই সমাজে বাকি আছে কি? অধিকার দেয়া হয় না, আদায় করে নিতে হয়৷ কিন্তু এতেও সমস্যা। কেউ অগ্রগামী হয়ে অধিকার আদায় করতে গেলে পঙ্গু করে দেয়া হয় তাকে। আমি এই কথাগুলো বললাম বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে। আমি এই কথাগুলো বললাম তাদের প্রতি সমাজের আচরণ থেকে। না, আমি তাদেরকে গরু ছাগলের সাথে তুলনা করিনি। বরং, তাদেরকে গরু ছাগল বানিয়ে রাখা হয়েছে, হচ্ছে- এই ব্যাপারটা পরিস্কার করে দিচ্ছি। যেহেতু তারা বঞ্চিত শ্রেনী, বিপরীতে পুরুষরা (সবাই নয়) শোষক শ্রেনী, সেহেতু আমার মনে হয় না পুরুষ নিজেরা তাদেরকে এই অধিকার দেবে। নারীরা যদি নিজ প্রচেষ্টায় এখান থেকে বেরিয়ে এসে সব আদায় করতে না পারে, তাহলে দুনিয়াতে তারা অচ্ছুৎ হিসেবেই রয়ে যাবে। অর্থাৎ, অস্তিত্ব আছে, কিন্তু দৈহিক চাহিদা মেটানো ও বাচ্চা জন্মদান ছাড়া আর কোন অবদান নেই। আমার কাছে মনে হয় যেকোন ‘ইজম/তন্ত্র’ অনুসারে নারীর জন্য যেসব অধিকার বজায় রয়েছে সেগুলোও যদি ঠিকমতো প্রদান করা হতো, তাহলে সমাজে এত পুরুষ বিদ্বেষ তৈরি হতো না। এইটুকু নিশ্চিত বলতে পারি।

পুনশ্চঃ বহুদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ফলাফল এই সারাংশ। তাই লেখা বুঝে মন্তব্য আশা করি। আর লেখাটির ভাব-সম্প্রসারণ জানতে চাইলে লেখক এখনও জীবিত আছেন।


Posted

in

by

Tags:

Comments

One response to “নারী ও পুরুষতান্ত্রিকতার সারাংশ”

  1. শারমিন আহমেদ Avatar
    শারমিন আহমেদ

    ধর্ম ও সমাজব্যবস্থায় নারী কেবল সঙ্গদায়ক কিছু। তার মূল্যায়ন কে করবে?
    কেউ না, এটাই সত্য। নারীকেই নিজের অবস্থান শক্ত করতে হলে নিজেকে চিনতে হবে। আমি নারী, আমিও পারি। স্রষ্টার সৃষ্টির এক শক্তিশালী প্রাণ আমিও। সাজ নয় কাজ,আমার আমিত্বে আমার পরিচয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *