‘শী’ এবং ‘রিটার্ন অভ শী’

লেখক হেনরী রাইডার হ্যাগার্ডের লেখার ভক্ত আমি। তাই তার বিশেষ কোন বই সম্পর্কে কিছু বলার আগে সবাইকে এটুকু বলতে চাই- এখনও যদি কেউ তার বই না পড়ে থাকেন, তাহলে আর দেরি করবেন না। মাস্টারপিস সব বই লিখে গেছেন এই লেখক। খুঁজে খুঁজে সবকটা বই পড়ে ফেলুন। আর নিজেকে হারিয়ে ফেলুন অন্য এক জগতে- রহস্য, রোমাঞ্চ এবং ভ্রমণের জন্য আদর্শ সেই জগত।
এবার আসি অন্য প্রসঙ্গে। এখন আমি বলতে চাই, হেনরী রাইডার হ্যাগার্ডের লেখা মাস্টারক্লাস দুটো বই ‘শী’ এবং ‘রিটার্ন অভ শী’ নিয়ে। মূলত ‘শী’ বইয়ের সিকুয়েল হচ্ছে ‘রিটার্ন অভ শী’। প্রথম বইয়ে থাকা রহস্যের তৃষ্ণা নিবারণ করার জন্যই দ্বিতীয় বইয়ের সৃষ্টি।
গল্পের শুরু হাজার হাজার বছর আগের মিশরে। সেখানে দেবী আইসিসের মন্দির ছিলো। সেই মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ছিলো ক্যালিক্রেটিস নামের এক গ্রীক পুরুষ। তাকে নিয়ে দুই রূপসী নারী মিশরের ফারাওয়ের কন্যা আমেনার্তাস ও আরব কন্যা আয়েশার প্রেমের দ্বন্দ্বই মূলত এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। ক্যালিক্রেটিস ছিলো একজন পুরোহিত। দেবীর পূজায় নিজের সারা জীবন উৎসর্গ করার শপথ নিয়েছিলো সে। কিন্তু তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায় মিশরের রাজকন্যা আমেনার্তাস। যাদু জানতো সে। যাদুর শক্তিতে ক্যালিক্রেটিসকে তার নিজের প্রতি বিমুগ্ধ করে ফেলে আমেনার্তাস এবং দেবীর রোষানল থেকে বাঁচতে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পালিয়ে যাবার পর যেখানে গিয়ে তারা পৌছায়, সেখানকারই এক আরব কন্যা আয়েশা ক্যালিক্রেটিসকে দেখে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে শুরু হয় দুই নারীর দ্বন্দ্ব। এক পর্যায়ে পালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় আমেনার্তাস ও ক্যালিক্রেটিস। সমুদ্রের নৌকায় ক্যালিক্রেটিসকে নিজ হাতে হত্যা করে আয়েশা এবং আমেনার্তাস তাকে অভিশাপ দেয়। সেই অভিশাপের সাজা পেতে থাকে আয়েশা। অপরদিকে অপেক্ষা করতে থাকে প্রিয় ক্যালিক্রেটিসের জন্য, যাকে সে নিজ হাতে হত্যা করেছে অন্য নারীর হতে দেবে না বলে। এভাবে দুই হাজার বছরের যন্ত্রনা নিয়ে অপেক্ষা চলে আয়েশার। অপেক্ষার পালা একসময় ফুরায়। ক্যালিক্রেটিস আসে। এই ক্যালিক্রেটিস আসলে গল্পের মূল নায়ক লিও ভিনসি। লিওর বাবার অনুরোধে হোরেস হলি (লিওর পালক পিতা) লিও ভিনসিকে বড় করে তোলে। মৃত্যুর পূর্বে বিভিন্ন ভাষায় লেখা কিছু চিঠি এবং লিও ভিনসির লালন পালনের টাকা হোরেস হলির হাতে তুলে দেয় লিওর পিতা। আরো তুলে দেয় রহস্যময় একটি বাক্স, যা কিনা তিনি হোরেস হলিকে লিওর পঁচিশ বছর হবার আগ পর্যন্ত খুলতে বারণ করেন। লিওর যখন পঁচিশ বছর পূর্ণ হয়, তখন তার বাবার ওসিয়ত মোতাবেক হলি বাক্সটি খোলে এবং জটিল রহস্যের খোঁজ পায়। সে অনুযায়ী রহস্যময় উদঘাটন করতে উদগ্রীব হয়ে ওঠে লিও। পালক পিতা হোরেস হলি রুখতে পারে না লিওকে। অতএব সেও রহস্য উদঘাটনে লিওর যাত্রা সঙ্গী হয়। ঘটনার শুরু এখান থেকেই। পুরোনো ক্যালিক্রেটিস পুনর্জন্ম নিয়ে এসেছে এমনটাই শুনতে হয় লিওকে। কিন্তু লিও ভিনসি বিশ্বাস করে না। যাইহোক, নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে আয়েশা ও লিওর দেখা হলেও, অকস্মাৎ সব পাল্টে যায়। শেষ মুহূর্তে আর মিলন হয় না তাদের। তবে আয়েশা অর্থাৎ ‘সে’ বলে যায়, আবার ফিরবে সে এবং সত্যিই ফিরে আসে। এই ফিরে আসা এবং তাকে খোঁজা নিয়ে শুরু হয় পরবর্তী রহস্যময় যাত্রা ‘রিটার্ন অভ শী’। আয়েশা স্বপ্নে দেখা দেয় হোরেস হলি ও লিও ভিনসির। নতুন আহ্বান শুনতে পায় তারা। এই আহ্বান আয়েশার। এই আহ্বান নতুন করে আয়েশার ফিরে আসার। অতঃপর লিও ভিনসি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, রহস্য উন্মোচনের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সে। সেইসাথে আয়েশার প্রতি প্রেম তো রয়েছেই। ফলে বেরিয়ে পড়তে চায় রহস্য উদঘাটনে। কিন্তু হোরেস হলি পুনরায় এতে আপত্তি করে। লিওকে খুব ভালোবাসে সে। তাই রহস্যের মায়াজালে হারাতে চায় না। কিন্তু লিওর একগুঁয়েমির কাছে তার আপত্তি ধোপে টেকেনি। অগত্যা হোরেস হলি আবার লিওর সাথে যেতে বাধ্য হয়। ঘর ছেড়ে দুজন বেরিয়ে পড়ে পুরাতন রহস্যকে নতুন করে সন্ধান করার জন্য। এরপর কী হয় সেসব জানতে হলে আপনাকে ডুবতে হবে ‘রিটার্ন অভ শী’ বইয়ের মধ্যে। লিও ভিনসি, হোরেস হলি, আয়েশা ও আমেনার্তাসের(রিটার্ন অভ শী বইয়ে খানিয়া আতেন নামে অভিহিত)শেষ পরিণতি কী হয়েছিলো তা জানতে হলে পড়তে হবে ‘রিটার্ন অভ শী’।
আমি বইটির অনুবাদ পড়েছি। ভালো লেগেছে। অনুবাদক নিয়াজ মোরশেদকে ধন্যবাদ। সেবা প্রকাশনীর অনুবাদটি আপনারা পড়তে পারেন। আশা করি ভালো লাগবে।
বইঃ শী, রিটার্ন অভ শী
লেখকঃ হেনরী রাইডার হ্যাগার্ড
রূপান্তরঃ নিয়াজ মোরশেদ
প্রকাশনীঃ সেবা প্রকাশনী
প্রাপ্তিস্থানঃ অনলাইন বুকশপ এবং সেবা প্রকাশনীর বিক্রয়কেন্দ্র।

Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *