মোসাদ এক্সোডাস | গ্যাড সিমরন

বর্তমান বিশ্বে সুপ্তভাবে চলছে এক লড়াই। কখনো সেই লড়াইয়ের প্রতিফলন ঘটছে এক জাতির সাথে অন্য জাতির বর্বরতার মধ্য দিয়ে, কখনোবা নিজ জাতির মানুষদেরকে যেকোনো উপায়ে উদ্ভূত বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করার মাধ্যমে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পেরেছেন কোন সে লড়াইয়ের কথা আমি বলতে চাচ্ছি। এই লড়াই হচ্ছে- জাতিগত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বৈশ্বিক এই দুনিয়ায় সবকিছু হাতের মুঠোয় চলে আসায়, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান ও ধর্মীয় মতাদর্শের বহুল প্রচারের ফলে বিভিন্ন জাতি আজ অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে। কাজেই, সেসব দেশের কর্ণধার তথা মানুষগুলো এখন সোচ্চার হচ্ছে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। তেমনি একটি দেশ হচ্ছে- ইজরায়েল। ইজরায়েলের নাম শোনেননি এমন লোক নেই বললেই চলে। ইহুদিদের একমাত্র মূল ভূমি এই ইজরায়েল। এর বাইরে সারা বিশ্বে ক্ষুদ্র সংখ্যক ইহুদিরা বসবাস রয়েছে, যা অতি নগন্য। বিশ্বের বুকে ইহুদিরা একটি সংখ্যালঘু জাতি। তাই দেশটি ইহুদিদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এমন কোনো পদক্ষেপ নেই যা নেয়নি বা নিচ্ছে না, নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে কখনো হেঁটে গিয়েছে সহিংসতার পথে, গুপ্ত হত্যার পথে। কখনোবা বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত হওয়া ইহুদিদেরকে উদ্ধার করে জানান দিয়েছে তাদের মধ্যে কতটা ভ্রাতৃত্ববোধ বিরাজমান এবং তা কত শক্তিশালী। স্বজাতিকে রক্ষার জন্য তাদের চেয়ে বেশি তৎপর কোনো জাতি সম্ভবত বর্তমান বিশ্বে একটিও নেই। গুপ্ত হত্যা ও গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ইজরায়েলের বদনাম সবসময়ই রয়েছে। যে বইটি নিয়ে কথা বলবো সেটিও মূলত কভার্ট অপারেশন নিয়ে। তবে আজকে কোনো বদনাম নয়। বরং স্বজাতির প্রতি তাদের প্রচন্ড ভালোবাসা থেকে তাদেরকে উদ্ধারের এক দুর্দান্ত উপাখ্যান নিয়ে রচিত বই নিয়ে কথা হবে। যেই উপাখ্যানের সূচনা হয়েছিলো সুদানে। তৎকালীন ইথিওপিয়ায় চলমান সংঘাত থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গৃহবন্দী হয়ে সুদান সীমান্তে আশ্রয় নেয়া সকল শরনার্থীদেরকে উদ্ধার অভিযান নিয়ে বইটি রচিত। সুদানের দুর্গম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে শরনার্থী তুলে নেবার স্থান খোঁজা, রাতের আঁধারে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করে লং রুটে ইথিওপিয়ান ইহুদিদেরকে ইজরায়েলে ফিরিয়ে নেবার অদম্য অভিযানের দিনলিপির ন্যায় এক বই ‘মোসাদ এক্সোডাস’। বইটির লেখক গ্যাড সিমরন ছিলেন মোসাদের একজন স্পাই। সুদানে অবস্থান করে সময়ে সময়ে অভিযান পরিচালনা ও সুদানে তার দিনগুলো কেমন কাটছিলো সে সম্পর্কে এই বইয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন তিনি। অভিযানের পুরোটা সময়জুড়ে ব্যাকআপ স্পট হিসেবে ছিলো সুদানের একটি ‘হলিডে ভিলেজ’। এটিকে লীজ নিয়ে সেখানেই বসবাস করতেন গ্যাড সিমরন ও তার সঙ্গীরা এবং অভিযানের সকল ছঁক আঁকতেন। সেইসব দিনের কথাও বইটিতে বর্ণিত হয়েছে। গ্যাড সিমরবের লেখায় ঝুঁকিপূর্ণ, অদম্য সেসব অভিযান বিষয়ে জানতে হলে পড়তে পারেন ‘মোসাদ এক্সোডাস’। পদে পদে রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতা আপনাকে করবে শিহরিত, এছাড়াও নন ফিকশনের স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারেই জানতে পারবেন প্রচুর তথ্য। বইটি নন ফিকশন হলেও গল্পের আকারে লেখক বলে গিয়েছেন তার সকল অভিজ্ঞতা, ইথিওপিয়ান ইহুদিদের করুণ দশার কথা, এছাড়াও সুদানের তৎকালীন পরিবেশের বর্ণনা তো রয়েছেই। প্রজন্ম পাবলিকেশনকে ধন্যবাদ জানাই এমন একটি বই প্রকাশ করার জন্য। বইয়ের কোয়ালিটি ভালো ছিলো (নিজে অনুবাদ করেছি বিধায় অনুবাদের মান সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না, মাফ করবেন, আপনারা যারা পূর্বে আমার অনুবাদ পড়েছেন তারা ভরসা করে সংগ্রহ করতে পারেন বইটি, আশা করি হতাশ হবেন না)।

** সবচাইতে যে বিষয়টি আপনাদের মন ছুঁয়ে যাবে তা হলো- ইহুদিদের ভ্রাতৃত্ববোধ এবং স্বজাতি রক্ষার কঠোর প্রতিজ্ঞা। হ্যাপি রিডিং।

বইঃ মোসাদ এক্সোডাস
লেখকঃ গ্যাড সিমরন
রূপান্তরঃ ত্বাইরান আবির
প্রকাশনীঃ প্রজন্ম পাবলিকেশন
প্রাপ্তিস্থানঃ সকল অনলাইন বুকশপ এবং প্রজন্ম পাবলিকেশনের বাংলাবাজারস্থ বিক্রয়কেন্দ্র।


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *