‘আনলিমিটেড মেমোরি’ বই থেকে কিয়দংশ

‘ঠিক যেখানে আছেন, ওখানেই মনযোগ দিন’

‘হাতে থাকা বিষয়গুলোর ওপরই আপাতত মনোযোগ দিন। সূর্যের কিরণও লক্ষ্যস্থির হবার আগ পর্যন্ত কিছু পোড়ায় না।’

– আলেক্সান্ডার গ্রাহামবেল

সৃষ্টিকর্তা আমাদের প্রত্যেককেই কিছু না কিছু উপহার দিয়েছেন। সবকিছু নিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতাও ওনার দেয়া। জীবনের যেকোন অংশ পরিবর্তন করার জন্য আপনি চিন্তা করতে সামর্থ্যবান। আপনি যা কিছুই করেন না কেন, সেটার ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারাটাও দারুণ এক ক্ষমতা। জীবন চলার পথে স্রোতের সাথে আপনি তাল মেলাবেন, নাকি সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবেন, যত দ্রুত সম্ভব এই সিদ্ধান্ত নেয়া আপনার দায়িত্বের অন্তর্গত।

অনেক লোক ভাবেন, দুর্দান্ত মনোযোগ হলো মনের জাদুকরী অবস্থা। লাখে দু’একজন এমন ভাগ্যবান জন্ম নেয় যাদের মনোযোগ খুব তীক্ষ্ণ। এই ভুল ধারণা খন্ডানোর জন্য একটা উদাহরণ দেয়া যাক- আপনি কি বলবেন যে পেশীবহুল দেহগড়ন জন্মগতভাবেই তৈরি হয়? জবাবটা আমিই দিচ্ছি। অবশ্যই না, কারণ আমরা জানি পেশীবহুল দেহ গড়তে হলে জিম ও পর্যাপ্ত ট্রেইনিং দরকার।

এতসব সত্ত্বেও, লোকে আপনার কী নেই সেদিকে লক্ষ্য করবে। জীবনে অন্যসব জিনিসের মত মনোযোগও একটি অনুশীলন। কিছু ধারাবাহিক চর্চার সমন্বিত অবস্থাটাই মূলত মনোযোগ। মস্তিষ্ক নিয়ে করা প্রতিদিনের গবেষণা আমাদেরকে বলছে যে, নিত্য নতুন বিষয় শেখার সাথে সাথে প্রতিনিয়তই আমাদের মস্তিষ্ক পরিবর্তিত রূপ নিচ্ছে। কাজেই, যেসব লোক এখনো নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন তারা ‘মস্তিষ্ক কখনোই পরিবর্তিত হয় না’ এই নীতিতে চলছেন। আমরা জানি যে মনোযোগের উন্নতি হয়, এটা সম্ভব। আমাদের ছন্নছাড়া মনকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে সহজেই এটা করা সম্ভব হয়।

একটা কথাই ধরুন। আমাদের সকালটি শুরু হয় নানারকম চিন্তাভাবনার মধ্য দিয়ে। অথচ সেসব চিন্তাগুলো আমরা নির্দিষ্ট সময়ে সময়ে করলে মনের অবস্থান কখনোই বিক্ষিপ্ত হবার কথা নয়। পীথাগোরাস বলেছেন,’নীরব থাকতে শিখুন। স্থির মনকে সুনির্দিষ্ট কাজে নিমগ্ন হতে দিন।’ আমরা যখন নীরব থাকবো, আমাদের চারপাশের পরিবেশ যখন শান্ত থাকবে, আমাদের মন তখন পরিণত হবে একটি লেজার বিমে। ফলে সুনির্দিষ্ট কাজ প্রচন্ড মনোযোগ নিয়ে করা সম্ভব হবে।

বইঃ আনলিমিটেড মেমোরি
লেখকঃ কেভিন হোর্সলি
অনুবাদঃ ত্বাইরান আবির
প্রকাশনীঃ চর্চা গ্রন্থ প্রকাশ


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *