প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস | মুভি রিয়েকশন

আপনাদের মধ্যে কেউ যদি বইপড়ুয়া হয়ে থাকেন, তাহলে জেন অস্টিনের নাম শুনে থাকবেন হয়তো। কিংবদন্তী এই লেখিকা পৃথিবীর বুকে অমর হয়ে আছেন তার লেখা বিখ্যাত বই ‘প্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’ এর জন্য। এমন একটি বিখ্যাত বই অবলম্বনে যদি মুভি তৈরি হয় তাহলে ব্যাপারটা দারুণ। তবুও বলে রাখা ভালো, বই আর মুভি আলাদা সেক্টর। বই অবলম্বনে মুভি বইটির পুরোপুরি স্বাদ আপনাকে দিতে ব্যর্থ। কিন্তু কল্পিত চরিত্রগুলোকে স্ক্রিনে দেখা নিশ্চয়ই ভালোভাবে সকল কিছু আত্মস্থ করতে সাহায্য করে। আপাতত বইয়ের কথা বাদ দিয়ে মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

ধরুন, আপনার পাঁচটি মেয়ে। আপনি পাঁচ মেয়ের বাবা/মা। এখন চিন্তা করুন তো, বাংলাদেশী প্রেক্ষাপটেই আপনাদের অবস্থান ঠিক কোথায় বা পারিবারিকভাবে সকলের কাছ থেকে কেমন আচরণ পান? মেয়েগুলো যদি সুন্দর হয় তাহলে তো হলোই, কিন্তু কালো হলে? তখন আরো বিপদ! কারণ, মেয়েদের নিয়ে আমাদের সমাজে একটু মন খারাপের রীতি বজায় আছে। ‘সোনার আঙটি বাঁকা ভালো’ কিংবা ‘বংশের বাত্তি হলো ছেলে’ এই ধরনের কিছু চলিত কথা শুনলেও সব পরিস্কার হয়ে যায়। এখনও গ্রাম বাংলায় এই মানসিকতা প্রচলিত আছে এবং মেয়েদেরকে অনেকাংশেই বোঝা মনে করা হয় পরিবারের। ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাবা/পরিবারের বাকিরাও দেখা যায় অসন্তুষ্ট হন মেয়ে সন্তানের জন্মে। যাইহোক, এই বৈষম্য নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না। তবুও কেন এই প্রসঙ্গ টানলাম? কারণ মুভির সাথে এই অংশটুকু রিলেটেড। জেন অস্টিনের বই অবলম্বনে তৈরি করা এই মুভির মূল কেন্দ্রবিন্দুও বলা চলে ওপরের কথাগুলোকে। বহু পূর্বের ইংল্যান্ড। সেখানে মিস্টার ব্যানেট ও মিসেস ব্যানেট দম্পতি বসবাস করেন। পাঁচ মেয়ে নিয়ে তাদের সংসার। বাবা মা সবসময়ই চিন্তায় থাকেন কতক্ষণে, কবে মেয়েদেরকে বিয়ে দিতে পারবেন। ভাবখানা এমন যেন মেয়েরা বোঝা। তার ওপর পাঁচ পাঁচটি মেয়ে! এই বোঝা যত তাড়াতাড়ি সরানো যায় ততই মঙ্গল। তাই বিভিন্ন সৈনিক দেখলে উক্ত মা খাতির করার চেষ্টা করেন। চেষ্টা করেন এমন কিছু করতে যাতে তার মেয়েদের মধ্যে কাউকে পছন্দ করে কোন সুদর্শন পুরুষ এবং বিয়ে হয়ে যায়। মায়ের এই স্বভাবের বিরুদ্ধের চরিত্র হচ্ছে পাঁচ মেয়ের দ্বিতীয় জন এলিজাবেথ ব্যানেট। মায়ের এমন কারবার তার পছন্দ নয়। সে মাকে জিজ্ঞেস, তুমি সবসময়ই এমন কেন করো? জবাবে মিসেস ব্যানেট বলেন, আগে তোর পাঁচটি মেয়ে হোক তখন বুঝবি কেন এমন করি!

শেষের কথাটিই আমাদেরকে দারুণ মেসেজ দেয়। তৎকালীন ইংল্যান্ডে মেয়েদের অবস্থান কেমন ছিলো তারই প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন জেন অস্টিন। আর তার বই অবলম্বনে এই মুভি। আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। সোশ্যাল ড্রামা টাইপ কাহিনী হওয়ার ফলে মুভিটা একটু স্লো ও নীরস লাগতে পারে কারো কারো কাছে। অবশ্য এটা যার যার ভালো লাগা ও পছন্দের ভিন্নতা। ফ্যান্টাসী মুভি লাভারের অবশ্যই স্লো কাহিনী ভালো লাগবে না। যাইহোক, শিক্ষনীয় এই মুভিটি সময় নিয়ে দেখতে পারেন। আমার তরফ হতে স্পেশাল রেকমেন্ডেশন।

IMDB Rating-7.8/10
Personal Rating-8/10


Posted

in

by

Tags:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *